আলফাডাঙ্গায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (খাদ্যগুদাম) বিরুদ্ধে ভাল চালের সাথে নিম্নমানের চাল মেশানোর অভিযোগ

শেয়ার করুন

সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভাল চালের সাথে নিম্নমানের চাল মেশানোর অভিযোগ

তৈয়বুর রহমান কিশোর, স্টাফ রিপোর্টার:

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার সরকারি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ভাল চালের সাথে নিম্নমানের চাল মেশানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, আলফাডাঙ্গা খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরাম হাসান খান শ্রমিক দিয়ে খাদ্যগুদামে রাখা ভিজিডির চালের সাথে নিম্নমানের চাল মিশিয়ে বস্তায় ভরছিলেন। গত তিন দিন ধরে খাদ্যগুদামেই এই নিম্নমানের চাল মেশানো হচ্ছিল। গোপনসূত্রে খবর পেয়ে রোববার (১২.০৭.২০) সকাল ১১টায় আলফাডাঙ্গা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ ঘটনাস্থলে যান। সেখানে গিয়ে তিনি সরকারি খাদ্যগুদামের ভাল চালের সাথে নিম্নমানের চাল মিশিয়ে বস্তায় ভরার ঘটনার সত্যতা পান। এ সময় নিম্নমানের ৪২ বস্তা চাল খাদ্যগুদামের ভেতরে ছিল। আরও বেশকিছু নিম্নমানের চালের সাথে ভাল চাল মেশানো অবস্থায় মেঝেতে পড়ে ছিল। উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তেেপ ওই নিম্নমানের চাল বস্তাভর্তি করতে পারেনি। অভিযোগ পেয়ে রোববার বিকেলে ফরিদপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মো. শাহিদার রহমান খাদ্য গুদাম পরিদর্শন করেছেন।
জানা গেছে, এ বছর উপজেলার কুসুমদি গ্রামে অবস্থিত ‘নূর এন্ড ব্রাদার্স রাইচ মিল’ এবং ‘বিসমিল্লাহ রাইচ মিল’ থেকে মোট ৩৮৫ মেট্রিক টন চাল ক্রয় করা হয় বলে খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান। তবে চাল ক্রয়ের জন্য এ বছর ৫৭২ মেট্রিকটন বরাদ্দ ছিল বলে উপজেলা চেয়ারম্যান জানান। বাকি চাল কোথা থেকে ক্রয় করা হয়েছে-তার কোন সদুত্তর দিতে পারেননি খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। চাল ক্রয়ের কোন কপিও তিনি দেখাতে পারেননি।
এবিষয়ে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা শাহিদার রহমান মোবাইলে বলেন, খাদ্যগুমে কিছু নি¤œমানের চাল পাওয়া গেছে। তবে ওই চাল খাওয়ার অনুপোযোগী নয়। আমি বিষয়টি বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি তারা এ বিষয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নিবেন। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রাশেদুর রহমান বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উপজেলা চেয়ারম্যান এ কে এম জাহিদুল হাসান জাহিদ বলেন, আলফাডাঙ্গায় কোন দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে ইউএনও কে জানাই। ব্যবস্থা নিতে বলেছি । খাদ্যগুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ একরাম হোসেন খান অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ৫০ কেজি বস্তার চাল খুলে ভিজিডির জন্য ৩০ কেজির বস্তা করা হচ্ছিল। স্থানীয় রাজনৈতিক কারণে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা চলছে।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *