মৃৎশিল্পের পেশায় থেকে মালতী পালের স্বপ্ন পূরণ

শেয়ার করুন

দীপঙ্কর পোদ্দার অপু
কোন পেশাই ছোট নয়। একাগ্রতা আর নিষ্ঠা থাকলে সব পেশায় থেকেই স্বপ্ন পূরণ করা সম্ভব। যেমন সম্ভব হয়েছে ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলার শেখর ইউনিয়নের বড়গাঁ গ্রামের রাজপ্রসাদ পালের। মৃৎশিল্পের পেশার মাধ্যমে তিনি তার ভাগ্যোন্নয়ন করেছেন। অথচ এই মৃৎশিল্পের পেশা বা পালের কাজকে অনেকেই ছোট মনে করেন।
রাজপ্রসাদের দুই ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়েকে ভালো ঘরে বিয়ে দিয়েছেন। বড় ছেলে উপ-পুলিশ পরিদর্শক, আর ছোট ছেলে ফরিদপুর রাজেন্দ্র কলেজ থেকে মাস্টার্স করে ভাল চাকুরির আশায় এখন ঢাকায় বিসিএসের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
বয়সের কাছে হার মেনে শক্তি হারিয়ে রাজপ্রসাদ এখন পৈতৃক পেশা থেকে ছুটি নিয়েছেন। ছুটি নিয়েছেন সংসারের দায়িত্ব থেকেও। বড় ছেলে পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক হিসেবে ভালো একটা চাকুরি করায় পরিবারে অভাব নেই বললেই চলে। তারপরও রাজপ্রসাদের পৈতৃক পেশা ঠিকই টেনে নিয়ে যাচ্ছেন তার যোগ্য সহধর্মিণী মালতী রানী পাল।
মালতী এখন মাটি দিয়ে পরম যত্নে দইয়ের টোপা (হাঁড়ি) তৈরি করেন। স্বামীর পেশায় তার অখণ্ড মনোযোগ। সপ্তাহে তিন দিন টোপা তৈরি করেন। একদিনে ৫০/৬০টি দইয়ের টোপা তৈরি করা যায়। প্রতিটি টোপা শুকনো অবস্থায় না পুড়িয়ে চার টাকা দরে অন্য পালের নিকট বিক্রি করেন।
মালতী রানী পাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, মাটির এ কাজকে ভালবেসে ফেলেছি। তাই এখন ছাড়তে পারছি না। বড় ছেলে ভাল চাকুরি করে। এখন মাটির কাজ না করলেও চলে। তবু এই জাতপেশাকে ছাড়তে মন চায় না।
রাজপ্রসাদ পালেরও একই কথা। মাটির কাজ করেই আজ ছেলেদের মানুষ করেছি। কোন পেশাই ছোট নয়। মৃৎশিল্পের পেশায় থেকেও স্বপ্ন পূরণ সম্ভব।


শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *